Rajshahi 9:49 pm, Sunday, 19 April 2026

খানাখন্দে ভরা পথে মানবিক দৃষ্টান্ত, নিজ হাতে সড়ক মেরামত করলেন আব্দুস সালেক আদিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 03:45:06 pm, Sunday, 19 April 2026
  • / 2 Time View

রাজশাহীর চারঘাট বাজারের সড়কের দূর্ভোগের গল্প নতুন নয়। কিন্তু সেই কষ্টের পাশে দাঁড়ানোর মানুষ খুব বেশি দেখা যায় না। ঠিক এমন এক সময়ে ভিন্ন এক দৃশ্যের জন্ম দিলেন চারঘাট পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালেক আদিল।

চারঘাট-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের চারঘাট বাজার সংলগ্ন প্রায় ৬০০ মিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। প্রতিদিনই এই পথ দিয়ে চলাচল করা মানুষদের ভোগান্তি যেন নিত্যসঙ্গী। শনিবার দিবাগত রাতের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। সড়কের গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে পথচলা হয়ে ওঠে বিপজ্জনক। কোথাও যানবাহন আটকে যাচ্ছে, কোথাও আবার উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

এমন অবস্থায় অপেক্ষা না করে, কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে না থেকে রবিবার সকালে নিজেই মাঠে নামেন আব্দুস সালেক আদিল। কয়েকজন শ্রমিক ও হাতে ইট-পাথরের ঝুড়ি নিয়ে শুরু হয় সড়ক মেরামতের কাজ। কোনো প্রচার নয়, কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, শুধু মানুষের কষ্ট কমানোর এক আন্তরিক চেষ্টা।

পথচারীরা থেমে সেই দৃশ্য দেখেছেন। কেউ বিস্মিত হয়েছেন, কেউ মুগ্ধ। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলছিলেন, “এভাবে একজন নেতা নিজে কাজ করছে এটা সত্যিই অন্যরকম। আমরা অন্তত বুঝতে পারছি, আমাদের কষ্টটা তিনি অনুভব করেন।”

স্থানীয়দের কাছে এই উদ্যোগ শুধু একটি সড়ক মেরামতের কাজ নয়, বরং একটি বার্তা- জনপ্রতিনিধি মানে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে পাশে থাকা। তাই অনেকেই ইতিমধ্যে তাকে পৌরসভার ‘জনবান্ধব নেতা’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে আব্দুস সালেক আদিল বলেন, “মানুষের কষ্ট দেখে চুপ করে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করে। তাদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমাতে পেরেছি এটাই আমার তৃপ্তি। আমি সবসময় চাই, মানুষের পাশে থাকতে, তাদের সমস্যার সমাধানে নিজের সাধ্যমতো কাজ করতে।”

তার এই মানবিক উদ্যোগ চারঘাটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, এমন উদ্যোগই একজন নেতাকে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে যায়। এজন্য আগামী পৌরসভা নির্বাচনে চারঘাট পৌরবাসী তাকে মেয়র হিসাবে ভাবতে শুরু করেছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

খানাখন্দে ভরা পথে মানবিক দৃষ্টান্ত, নিজ হাতে সড়ক মেরামত করলেন আব্দুস সালেক আদিল

Update Time : 03:45:06 pm, Sunday, 19 April 2026

রাজশাহীর চারঘাট বাজারের সড়কের দূর্ভোগের গল্প নতুন নয়। কিন্তু সেই কষ্টের পাশে দাঁড়ানোর মানুষ খুব বেশি দেখা যায় না। ঠিক এমন এক সময়ে ভিন্ন এক দৃশ্যের জন্ম দিলেন চারঘাট পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালেক আদিল।

চারঘাট-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের চারঘাট বাজার সংলগ্ন প্রায় ৬০০ মিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। প্রতিদিনই এই পথ দিয়ে চলাচল করা মানুষদের ভোগান্তি যেন নিত্যসঙ্গী। শনিবার দিবাগত রাতের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। সড়কের গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে পথচলা হয়ে ওঠে বিপজ্জনক। কোথাও যানবাহন আটকে যাচ্ছে, কোথাও আবার উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

এমন অবস্থায় অপেক্ষা না করে, কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে না থেকে রবিবার সকালে নিজেই মাঠে নামেন আব্দুস সালেক আদিল। কয়েকজন শ্রমিক ও হাতে ইট-পাথরের ঝুড়ি নিয়ে শুরু হয় সড়ক মেরামতের কাজ। কোনো প্রচার নয়, কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, শুধু মানুষের কষ্ট কমানোর এক আন্তরিক চেষ্টা।

পথচারীরা থেমে সেই দৃশ্য দেখেছেন। কেউ বিস্মিত হয়েছেন, কেউ মুগ্ধ। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলছিলেন, “এভাবে একজন নেতা নিজে কাজ করছে এটা সত্যিই অন্যরকম। আমরা অন্তত বুঝতে পারছি, আমাদের কষ্টটা তিনি অনুভব করেন।”

স্থানীয়দের কাছে এই উদ্যোগ শুধু একটি সড়ক মেরামতের কাজ নয়, বরং একটি বার্তা- জনপ্রতিনিধি মানে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে পাশে থাকা। তাই অনেকেই ইতিমধ্যে তাকে পৌরসভার ‘জনবান্ধব নেতা’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে আব্দুস সালেক আদিল বলেন, “মানুষের কষ্ট দেখে চুপ করে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করে। তাদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমাতে পেরেছি এটাই আমার তৃপ্তি। আমি সবসময় চাই, মানুষের পাশে থাকতে, তাদের সমস্যার সমাধানে নিজের সাধ্যমতো কাজ করতে।”

তার এই মানবিক উদ্যোগ চারঘাটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, এমন উদ্যোগই একজন নেতাকে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে যায়। এজন্য আগামী পৌরসভা নির্বাচনে চারঘাট পৌরবাসী তাকে মেয়র হিসাবে ভাবতে শুরু করেছেন।