Rajshahi 11:58 am, Wednesday, 3 June 2026

চারঘাটে তরুণ উদ্যোক্তা সজিব হাসানের ওপর হামলা ও অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:12:15 pm, Saturday, 9 May 2026
  • / 11 Time View

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পাটিয়াকান্দি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সজিব হাসান স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক অনন্য উদাহরণ। মালয়েশিয়া প্রবাসী নাহারুল ইসলামের ছেলে সজিবের বাবা ও চাচা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। পরিবারের সেই প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা আর সহযোগিতাকে পুঁজি করে এলাকায় কিছু করার স্বপ্ন দেখেন সজিব।

সেই স্বপ্ন থেকেই পাঁচ বছর আগে বাবার সহযোগিতায় কিছু টাকা জোগাড় করে কিস্তিতে প্রথম ট্রাক কেনেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে আরও কয়েকটি ট্রাক কেনেন, সবই কিস্তির মাধ্যমে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় চার লাখ টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হলেও তার এই ব্যবসার মাধ্যমে এলাকায় অর্ধশতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ট্রাক ভাড়া খাটানোর ব্যবসা ভালোই চলছিল। তবে সম্প্রতি তার আপন মামা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাকের তেল ও যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে কাজ থেকে বাদ দেন সজিব। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জিয়াউর রহমান।

সজিবের অভিযোগ, কিছুদিন আগে ট্রাকের জন্য তেল কিনতে যাওয়ার পথে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান জিয়াউর রহমান। এ সময় তার কাছে থাকা তেল কেনার দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি বাসায় বিশ্রামে আছেন।

এ ঘটনার পরও থেমে নেই অপপ্রচার। সজিবের অভিযোগ, জিয়াউর রহমান ও তার সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে তার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন সজিবের বসতবাড়ির এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো অপপ্রচারের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা অপরাধমূলক কোনো কাজের সাথে কখনও জড়িত থাকার কথাও তারা কখনও শোনেননি বলে জানিয়েছেন।

সজিবের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ট্রাকচালক বলেন, “জিয়াউর রহমানের কারণে সজিবের ব্যবসা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তাকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই সে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সজিবের কারণে আমাদের অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা তার পাশে আছি।”

স্থানীয় শিক্ষক মমিনুল ইসলাম বলেন, “সজিব একজন পরিশ্রমী তরুণ উদ্যোক্তা। কিশোর গ্যাং, মাদক কিংবা অস্ত্রের সঙ্গে তার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা একজন তরুণের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার অগ্রহণযোগ্য।”

এ বিষয়ে সজিব হাসান বলেন, “আমি কিস্তিতে ট্রাক কিনে সৎভাবে ব্যবসা করছি। কিন্তু একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। আমি শুধু ট্রাক ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করি। রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গেও আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এখন আমি ও আমার পরিবার হুমকি-ধামকি পাচ্ছি প্রতিনিয়ত, প্রাণের ভয়ে দিন পার করছি।”

সজিব হাসান আরো বলেন, “জিয়ার নামে এলাকার মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারামারি একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার নামে। প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।”

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, “সজিবের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চারঘাটে তরুণ উদ্যোক্তা সজিব হাসানের ওপর হামলা ও অপপ্রচার

Update Time : 02:12:15 pm, Saturday, 9 May 2026

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পাটিয়াকান্দি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সজিব হাসান স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক অনন্য উদাহরণ। মালয়েশিয়া প্রবাসী নাহারুল ইসলামের ছেলে সজিবের বাবা ও চাচা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। পরিবারের সেই প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা আর সহযোগিতাকে পুঁজি করে এলাকায় কিছু করার স্বপ্ন দেখেন সজিব।

সেই স্বপ্ন থেকেই পাঁচ বছর আগে বাবার সহযোগিতায় কিছু টাকা জোগাড় করে কিস্তিতে প্রথম ট্রাক কেনেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে আরও কয়েকটি ট্রাক কেনেন, সবই কিস্তির মাধ্যমে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় চার লাখ টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হলেও তার এই ব্যবসার মাধ্যমে এলাকায় অর্ধশতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ট্রাক ভাড়া খাটানোর ব্যবসা ভালোই চলছিল। তবে সম্প্রতি তার আপন মামা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাকের তেল ও যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে কাজ থেকে বাদ দেন সজিব। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জিয়াউর রহমান।

সজিবের অভিযোগ, কিছুদিন আগে ট্রাকের জন্য তেল কিনতে যাওয়ার পথে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান জিয়াউর রহমান। এ সময় তার কাছে থাকা তেল কেনার দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি বাসায় বিশ্রামে আছেন।

এ ঘটনার পরও থেমে নেই অপপ্রচার। সজিবের অভিযোগ, জিয়াউর রহমান ও তার সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে তার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন সজিবের বসতবাড়ির এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো অপপ্রচারের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা অপরাধমূলক কোনো কাজের সাথে কখনও জড়িত থাকার কথাও তারা কখনও শোনেননি বলে জানিয়েছেন।

সজিবের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ট্রাকচালক বলেন, “জিয়াউর রহমানের কারণে সজিবের ব্যবসা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তাকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই সে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সজিবের কারণে আমাদের অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা তার পাশে আছি।”

স্থানীয় শিক্ষক মমিনুল ইসলাম বলেন, “সজিব একজন পরিশ্রমী তরুণ উদ্যোক্তা। কিশোর গ্যাং, মাদক কিংবা অস্ত্রের সঙ্গে তার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা একজন তরুণের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার অগ্রহণযোগ্য।”

এ বিষয়ে সজিব হাসান বলেন, “আমি কিস্তিতে ট্রাক কিনে সৎভাবে ব্যবসা করছি। কিন্তু একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। আমি শুধু ট্রাক ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করি। রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গেও আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এখন আমি ও আমার পরিবার হুমকি-ধামকি পাচ্ছি প্রতিনিয়ত, প্রাণের ভয়ে দিন পার করছি।”

সজিব হাসান আরো বলেন, “জিয়ার নামে এলাকার মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারামারি একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার নামে। প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।”

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, “সজিবের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”