কৃষিজমি বাঁচাতে রাতভর সাঁড়াশি অভিযান, আলোচনায় এসিল্যান্ড রাহাতুল করিম মিজান
- Update Time : 02:22:06 pm, Thursday, 19 March 2026
- / 21 Time View
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষিজমি রক্ষা, বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থে আইন প্রয়োগে দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা রেখে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাহাতুল করিম মিজান। তাঁর নিরলস পরিশ্রম, দায়িত্বশীলতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ইতোমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে পরিচালিত একাধিক সাঁড়াশি অভিযানে তাঁর তৎপরতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল কেটে অবৈধভাবে ইটভাটায় সরবরাহ করছে, যা একদিকে যেমন কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি, অন্যদিকে পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি তাৎক্ষণিক গভীর রাতেই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিমপাড়া ইউনিয়নের কালাবিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর মেশিন অকেজো করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে শামীম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এরপর রাত ১২টার দিকে সরদহ ইউনিয়নের পাটিয়াকান্দী এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একইভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত এক্সকাভেটরটি অকেজো করে দেওয়া হয় এবং মেশিনের দুইটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়। তবে এসিল্যান্ডের গাড়ির শব্দ শুনেই খননকাজে জড়িতরা পালিয়ে যায়।
তবে শুধু মাটি কাটা বন্ধেই সীমাবদ্ধ নেই এসিল্যান্ডের কার্যক্রম। পবিত্র রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে তেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, তাঁর এই সাহসী ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিশেষ করে কৃষিজমি রক্ষায় তাঁর কঠোর অবস্থান কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। অনেকেই এটিকে একটি সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জমির উর্বরতা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাহাতুল করিম মিজান বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় জনস্বার্থে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।কৃষিজমি রক্ষা, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।









