Rajshahi 10:02 pm, Thursday, 4 June 2026

চারঘাটে অবৈধ খনন: অভিযানের মাঝেও চলছে মাটি কাটার উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 05:44:53 am, Tuesday, 5 May 2026
  • / 14 Time View

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় গত এক যুগে ব্যাপক হারে পুকুর খননের ফলে বদলে গেছে এলাকার প্রাকৃতিক চিত্র। একসময় যেসব জমিতে সবুজ ফসলের সমারোহ ছিল, সেসব জমি এখন পরিণত হয়েছে পুকুরে। শুধু তাই নয়, উর্বর মাটির একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে ইটভাটায়। ফলে কৃষিজমি ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রশাসন অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। দিন-রাত অভিযান চালিয়েও কিছু স্থানে অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী রবিউল ইসলাম।

চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার এলাকায় কোনো অবৈধ পুকুর খনন সহ্য করা হবে না এবং দলের কেউ জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে রবিউল ইসলাম এমপির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

সরেজমিনে নিমপাড়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত তিনটি স্থানে পুকুর খননের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কারের নাম করে অনুমোদন ছাড়াই দিন-রাত মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের সামনে এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি কাজের সাথেই রবিউলের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।

নন্দনগাছী এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “অন্য কোথাও মাটি কাটার খবর পেলেই প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে। কিন্তু রবিউলের ক্ষেত্রে অভিযান গিয়ে ফিরে আসে—এটা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “পুকুর খননের জগতে রবিউল এখন প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এলাকায় এমন ধারণা রয়েছে যে, তার কাজ বন্ধ করার ক্ষমতা প্রশাসনের কারও নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি সব কাজ অনুমোদন নিয়েই করছেন এবং কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।

অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান জানান, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চারঘাটে অবৈধ খনন: অভিযানের মাঝেও চলছে মাটি কাটার উৎসব

Update Time : 05:44:53 am, Tuesday, 5 May 2026

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় গত এক যুগে ব্যাপক হারে পুকুর খননের ফলে বদলে গেছে এলাকার প্রাকৃতিক চিত্র। একসময় যেসব জমিতে সবুজ ফসলের সমারোহ ছিল, সেসব জমি এখন পরিণত হয়েছে পুকুরে। শুধু তাই নয়, উর্বর মাটির একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে ইটভাটায়। ফলে কৃষিজমি ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রশাসন অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। দিন-রাত অভিযান চালিয়েও কিছু স্থানে অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী রবিউল ইসলাম।

চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার এলাকায় কোনো অবৈধ পুকুর খনন সহ্য করা হবে না এবং দলের কেউ জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে রবিউল ইসলাম এমপির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

সরেজমিনে নিমপাড়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত তিনটি স্থানে পুকুর খননের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কারের নাম করে অনুমোদন ছাড়াই দিন-রাত মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের সামনে এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি কাজের সাথেই রবিউলের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।

নন্দনগাছী এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “অন্য কোথাও মাটি কাটার খবর পেলেই প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে। কিন্তু রবিউলের ক্ষেত্রে অভিযান গিয়ে ফিরে আসে—এটা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “পুকুর খননের জগতে রবিউল এখন প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এলাকায় এমন ধারণা রয়েছে যে, তার কাজ বন্ধ করার ক্ষমতা প্রশাসনের কারও নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি সব কাজ অনুমোদন নিয়েই করছেন এবং কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।

অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান জানান, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।