গভীর নলকূপ বসাতে অনুমোদন নেননি কছির
- Update Time : 02:45:56 pm, Saturday, 13 December 2025
- / 40 Time View
রাজশাহীর তানোরে নিহত শিশু সাজিদ যে নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়েছিল , সেটি খনন করেছিলেন স্থানীয় কছির উদ্দিন । তবে উপজেলার কোয়েলহাট গ্রামে এই নলকূপ স্থাপনের জন্য উপজেলা সেচ কমিটির কোনো অনুমোদন নেননি । তিনি পানির ব্যবসা করেন । ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি ।
দুই বছরের শিশু সাজিদ গত বুধবার দুপুরের দিকে ওই গর্তে পড়ে যায় । এরপর বেলা ২ টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে । ৩২ ঘণ্টা পর গত বৃহস্পতিবার রাতে সাজিদের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস । স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , কছির দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন । দেশে ফেরার পর পানির ব্যবসা শুরু করেন। এলাকায় পাঁচটি অগভীর নলকূপ
অনুমতি না নিয়ে নলকূপ খনন ( সেমিডিপ ) বসিয়েছেন তিনি । এর মধ্যে একটি সেমিডিপ চালান মৎস্য খামারের নামে বিদ্যুৎ – সংযোগ নিয়ে । দুটি বিদ্যুতের সংযোগ আছে সেচ নামেই। বাকি দুটি অন্য ব্যক্তির সেমিডিপ থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ – সংযোগ নিয়ে চালান তিনি ।
পানির ব্যবসায় ভালো লাভ হওয়ায় প্রায় এক বছর আগে শিশু সাজিদদের বাড়ির পাশে নিজের জমিতে কছির আরেকটি সেমিডিপ বসানোর চেষ্টা করেছিলেন । এ জন্য পরপর তিনটি স্থানে তিনি মিস্ত্রিদের দিয়ে বোরহোল করান । কিন্তু ৯০ ফুটের পর সেখানে পানি পাওয়া যায়নি । বরং , বোরহোলের পাইপ দিয়ে পাথর উঠে আসছিল । তাই সেখানে আর সেমিডিপ বসানো হয়নি ।
নিহত সাজিদের মা রুনা খাতুন বলেন , কছির উদ্দিন তিন জায়গা বোরিং (বোরহোল করে ফেলে রেখেছিল । তাঁর কারণে আমার সাজিদ মারা গেল । আমি কছির উদ্দিনের শাস্তি চাই ।
রুনার কথার সত্যতা পাওয়া যায় তাঁর বাড়ি থেকে বের হয়ে একটু পূর্ব দিকে যেতেই । এখানেই একটি সরু গর্ত উন্মুক্ত অবস্থায় দেখা যায় । লোকজন সেটি ঘিরে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন।
শিশু সাজিদ বোরহোলে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন কছির উদ্দিন । তিনি বাড়িতে নেই । মোবাইল ফোনও বন্ধ । তিন দিন ধরে তাঁর কোনো খোঁজই পাওয়া যায়নি । তাঁর অবহেলার শাস্তি দাবি করেছেন নিহত সাজিদের বাবা রাকিবুল ইসলাম । তিনি বলেন , শুধু তাঁর অবহেলার জন্য আমার একটা কলিজা আমি হারিয়ে ফেললাম । প্রশাসন সবই দেখেছে। আমি তাদের কাছে একটা সুষ্ঠু বিচার চাই ।
উপজেলা নির্বাহী ( ইউএনও ) নাঈমা খান বলেন , কছির উদ্দিনের অবহেলার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে । ভিকটিমের পরিবার যেভাবে চাইবে , সেভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে ।
ইউএনও নাঈমা পদাধিকারবলে উপজেলা কমিটির সভাপতি । তিনি জানান , আগে থেকেই কছির উদ্দিনের কয়েকটি সেচপাম্প আছে বলে তিনি শুনেছেন । সেগুলো বৈধ কি না , তা যাচাই করতে হবে । তবে যে সেচপাম্পের বোরহোলে পড়ে সাজিদের মৃত্যু হয়েছে , সেটির জন্য কছির উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন নেননি । তিনি বেআইনি কাজ করেছিলেন ।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না , জানতে চাইলে তিনি বলেন , আমরা সবকিছুই দেখছি । ব্যবস্থা হবে ।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে কোয়েলহাট গ্রামের মাঠেই জানাজা শেষে এলাকার গোরস্থানে মরদেহ সমাহিত করা হয়। তার জানাজায় দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষেরা অংশ নেন । শিশু সাজিদের মৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকাহত। একই সঙ্গে তারা ক্ষুব্ধ ।
রাকিবুলের আত্মীয় আলী জিন্নাহ বলেন , একজন ব্যক্তির অবহেলায় এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না । যিনি এ ঘটনার জন্য দায়ী , তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে ।
এলাকার বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম বলেন , ৫০ ফুট নিচে আটকে শিশুর মৃত্যু আমাদের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি । মায়ের চোখের সামনে সন্তান যে অন্ধকারে হারিয়ে গেল , এ দৃশ্য কারও সহ্য করা কঠিন ।










