Rajshahi 2:29 pm, Tuesday, 21 April 2026

প্রতিটি শিশুর অর্জন এক অনুপ্রেরণার মাইলফলক: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:58:24 pm, Thursday, 13 November 2025
  • / 41 Time View

বাসসঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রতিযোগিতা নিজেকে আবিষ্কারের এক সুযোগ। প্রতিটি শিশুর অর্জন, যত ছোটই হোক না কেন— একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা তার কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় শিশু প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’ দেশের শিশু ও কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সেই সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শিশুদের জন্য আজকের এই অর্জন তাদের জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত। এটি তাদের আরও এগিয়ে যেতে, নিজেদের আবিষ্কার করতে অনুপ্রাণিত করবে। এ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্যই হলো নিজেকে আবিষ্কার করা।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় সারা দেশের হাজারো শিশু অংশ নেয়। নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ মোট ১২টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্ব শেষে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে হয় চূড়ান্ত পর্ব।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের সেরা দুই বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ‘ক’ গ্রুপে টাঙ্গাইল জেলার প্রেয়সী চক্রবর্তী এবং ‘খ’ গ্রুপে সুনামগঞ্জ জেলার শুভ মিতা তালুকদার চ্যাম্পিয়ন হয়। তারা প্রত্যেকে একটি ক্রেস্ট ও তিন লাখ টাকার চেক গ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রতিযোগিতা শিশুদের চরিত্র ও দৃঢ়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা প্রশ্ন করতে শেখে, চ্যালেঞ্জ নিতে শেখে, বুঝতে শেখে যে তারা এমন কিছু করতে পারে যা অন্যরা পারে না। এভাবেই তাদের আত্মবিশ্বাস ও কল্পনাশক্তি বেড়ে ওঠে।

প্রধান উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিযোগিতাটিকে আরও বিস্তৃত করার জন্য সরকারের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি প্রতিযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, ফ্যাশন ডিজাইন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, লেখালেখি ও ক্রীড়া— এসব ক্ষেত্রেও এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত— কোনো শিশুই যেন পিছিয়ে না থাকে। প্রতিটি শিশুর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। আমাদের কাজ হলো তা আনন্দের সঙ্গে, কোনো চাপ ছাড়াই, আত্ম-আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে খুঁজে বের করা।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করার আহ্বান জানিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘যেভাবে আমরা বাংলাদেশের সেরাদের মধ্যে সেরা হতে চাই, তেমনি আমরা চাই বিশ্বের সেরাদের মধ্যেও জায়গা করে নিতে।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রতিটি শিশুর অর্জন এক অনুপ্রেরণার মাইলফলক: প্রধান উপদেষ্টা

Update Time : 02:58:24 pm, Thursday, 13 November 2025

বাসসঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রতিযোগিতা নিজেকে আবিষ্কারের এক সুযোগ। প্রতিটি শিশুর অর্জন, যত ছোটই হোক না কেন— একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা তার কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় শিশু প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’ দেশের শিশু ও কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সেই সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শিশুদের জন্য আজকের এই অর্জন তাদের জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত। এটি তাদের আরও এগিয়ে যেতে, নিজেদের আবিষ্কার করতে অনুপ্রাণিত করবে। এ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্যই হলো নিজেকে আবিষ্কার করা।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় সারা দেশের হাজারো শিশু অংশ নেয়। নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ মোট ১২টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্ব শেষে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে হয় চূড়ান্ত পর্ব।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের সেরা দুই বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ‘ক’ গ্রুপে টাঙ্গাইল জেলার প্রেয়সী চক্রবর্তী এবং ‘খ’ গ্রুপে সুনামগঞ্জ জেলার শুভ মিতা তালুকদার চ্যাম্পিয়ন হয়। তারা প্রত্যেকে একটি ক্রেস্ট ও তিন লাখ টাকার চেক গ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রতিযোগিতা শিশুদের চরিত্র ও দৃঢ়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা প্রশ্ন করতে শেখে, চ্যালেঞ্জ নিতে শেখে, বুঝতে শেখে যে তারা এমন কিছু করতে পারে যা অন্যরা পারে না। এভাবেই তাদের আত্মবিশ্বাস ও কল্পনাশক্তি বেড়ে ওঠে।

প্রধান উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিযোগিতাটিকে আরও বিস্তৃত করার জন্য সরকারের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি প্রতিযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, ফ্যাশন ডিজাইন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, লেখালেখি ও ক্রীড়া— এসব ক্ষেত্রেও এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত— কোনো শিশুই যেন পিছিয়ে না থাকে। প্রতিটি শিশুর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। আমাদের কাজ হলো তা আনন্দের সঙ্গে, কোনো চাপ ছাড়াই, আত্ম-আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে খুঁজে বের করা।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করার আহ্বান জানিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘যেভাবে আমরা বাংলাদেশের সেরাদের মধ্যে সেরা হতে চাই, তেমনি আমরা চাই বিশ্বের সেরাদের মধ্যেও জায়গা করে নিতে।’